মাইক্রোপ্লাস্টিকের হুমকি ও সুরক্ষার উপায়: যা জানা জরুরি

মাইক্রোপ্লাস্টিকের হুমকি ও সুরক্ষার উপায়: যা জানা জরুরি

প্লাস্টিক প্রকৃতিতে পচে না, বরং এটি শত শত বছর পরিবেশে টিকে থাকে। সময়ের সাথে সাথে এটি ভেঙে অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এই কণাগুলো মাটি, নদী ও সমুদ্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। ফলে আমরা যে মাছ, মাংস ও শাকসবজি খাই, তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে।


স্বাস্থ্যঝুঁকি মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য, পানি ও শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ফাইব্রয়েড এবং এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যা বাড়াতে পারে, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান ও টেস্টোস্টেরন হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া এটি সময়মতো বয়ঃসন্ধি ঘটায় বা বিলম্বিত করতে পারে, শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে এবং ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট ও লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম নষ্ট হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও অটোইমিউন রোগের আশঙ্কাও তৈরি হয়।


সুরক্ষার উপায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পশ থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:


➧ প্লাস্টিকের চপিং বোর্ডের বদলে কাঠ বা কাচের ব্যবহার করুন।

➧ খাবারের পাত্রে স্টেইনলেস স্টিল, ফুড-গ্রেড সিলিকন বা কাঠের বিকল্প বেছে নিন।

➧ প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার কখনো গরম করবেন না।

➧ প্লাস্টিকের স্ট্রের পরিবর্তে বঁশ বা স্টেইনলেস স্টিলের স্ট্র ব্যবহার করুন।

➧ টি-ব্যাগের বদলে খোলা চা-পাতা ব্যবহার করা উত্তম, কারণ অনেক টি-ব্যাগে পলিপ্রোপাইলিন থাকে।

➧ প্লাস্টিকের টুথব্রাশের বদলে বাঁশের টুথব্রাশ এবং প্লাস্টিকের গ্লাসের বদলে ধাতব গ্লাস ব্যবহার করুন।

➧ বাজারের জন্য পটের ব্যাগ এবং পানির জন্য স্টেইনলেস বোতল ব্যবহার করুন।


শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা শিশুদের জন্য স্টেইনলেস স্টিলের টিফিন বক্স এবং সুতির পোশাক ব্যবহার নিশ্চিত করুন। প্লাস্টিকের খেলনার বদলে কাঠ, তুলা বা সিলিকনের খেলনা দিন।


খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন নীল, বেগুনি ও লাল রঙের ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, যা মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় ডালিম, ড্রাগন ফ্রুট, বিট, গাজর, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্লুবেরি ও লাল পেঁয়াজ রাখা উচিত।