পাকা কলা দীর্ঘদিন টাটকা রাখার উপায়

পাকা কলা দীর্ঘদিন টাটকা রাখার উপায়

সহজলভ্য হলেও কলা সংরক্ষণ নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। বাজার থেকে আনা পাকা কলা কয়েক দিনের মধ্যেই নরম হয়ে কালচে দাগে ভরে যায়। ফলে নষ্ট হয় উল্লেখযোগ্য অংশ। তবে খাদ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে পাকা কলা এক মাস পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব।

সম্প্রতি খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়ক একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলা দ্রুত পাকার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে ইথিলিন গ্যাস। এ গ্যাস নিজেই নিঃসৃত হয় আর আশপাশের ফলকেও দ্রুত পাকিয়ে তোলে। তাই সংরক্ষণের কৌশলগুলো মূলত এই গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও আর্দ্রতা কমানোর দিকেই গুরুত্ব দেয়।

লবণ-পানির ব্যবহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা সংরক্ষণের কার্যকর একটি উপায় হলো লবণ-পানিতে ধোয়া। পরিষ্কার পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে তাতে পুরো কলার থোকা কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর খোসা ও ডাঁটার অংশ আলতো করে পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে খোসার ওপর থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের স্পোর কমে যায়, সেইসঙ্গে পচন ধীর হয়।

ডাঁটা মুড়িয়ে রাখা

কলা থেকে নির্গত ইথিলিন গ্যাস মূলত ডাঁটার অংশ দিয়েই ছড়ায়। তাই ডাঁটায় প্লাস্টিক র‍্যাপ বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল মুড়িয়ে দিলে পাকানোর গতি কমে যায় বলে জানান খাদ্যবিজ্ঞানীরা।

ঝুলিয়ে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ

টেবিল বা ঝুড়িতে রাখলে নিচের কলাগুলো চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য বাজারে পাওয়া কলা ঝুলানোর হ্যাঙ্গার ব্যবহার করলে বাতাস চলাচল ঠিক থাকে এবং আকার-গঠন নষ্ট হয় না।

আলাদা করে রাখা জরুরি

আপেল, অ্যাভোকাডো ও টমেটোর মতো ফল থেকেও বেশি মাত্রায় ইথিলিন নির্গত হয়। এসব ফলের পাশে কলা রাখলে তা দ্রুত অতিরিক্ত পেকে যায়। তাই আলাদা স্থানে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কাগজ ও ঝুড়ির ভূমিকা

প্লাস্টিকের পাত্রে আর্দ্রতা জমে ছত্রাকের ঝুঁকি বাড়ে। তার পরিবর্তে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা বাঁশের ঝুড়িতে রাখলে কলা তুলনামূলক দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা

অনেকে পাকা কলা ফ্রিজে রাখেন। এতে শাঁস ঠিক থাকলেও খোসা দ্রুত কালো হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের বাইরে ১৩-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই কলা সংরক্ষণের জন্য উপযোগী।

অতিরিক্ত পেকে গেলে বিকল্প ব্যবহার

খুব বেশি পেকে গেলে খোসা ছাড়িয়ে শাঁস এয়ারটাইট পাত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে স্মুদি, কেক বা ডেজার্টে ব্যবহার করা সম্ভব। Source: bonikbarta.com